প্যারাসিটামল ট্যাবলেট এর কাজ কি? পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও ডোজ

Share With

প্যারাসিটামল ট্যাবলেট কি? What is Paracetamol Tablet ? Paracetamol 650 tablet uses in bengali.

প্যারাসিটামল, যা অ্যাসিটামিনোফেন নামেও পরিচিত, এটি জ্বর এবং হালকা থেকে মাঝারি ব্যথার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। ইহা শরীরের তাপমাত্রা সামান্য কমিয়ে দেয় এবং তীব্র মাইগ্রেনের ব্যথা উপশম করতে পারে কিন্তু এপিসোডিক টেনশন মাথাব্যথার ক্ষেত্রে সামান্য কমায়।

প্যারাসিটামল মূলত মাথাব্যথা, পেশি ব্যথা,বাত ও পিঠের ব্যথা,দাঁতের ব্যথা, ক্যান্সারের ব্যথা এবং নিউরোপ্যাথিক ব্যথা, সর্দি জ্বরের মতো অনেক অসুখের চিকিৎসা জন্য ব্যবহার করা হয়।

আরো পড়ুন : Zincovit Tablet এর ব্যবহার, ডোজ, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও সাবধানতা

প্যারাসিটামল ডোজ Paracetamol Doses in Bengali

২৪ ঘণ্টায় চিকিত্সকরা সর্বাধিক তিন থেকে চারবার প্যারাসিটামল খাওয়ার পরামর্শই দেন। কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে, ২৪ ঘণ্টায় ৪ গ্রাম বা ৪০০০ মিলিগ্রামের বেশি প্যারাসিটামল খাওয়া যাবে না।

প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সর্বোচ্চ দৈনিক ডোজ তিন থেকে চার গ্রাম (অর্থাৎ সারাদিনে একটি করে তিনবার বা চারবার) । অধিক মাত্রায় নিলে শরীরে টক্সিক এর পরিমাণ বেড়ে লিভার ফেলিওর হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

গা ব্যথা বা জ্বরের জন্য তিন দিন পর্যন্ত প্যারাসিটামল খাওয়া যেতে পারে। তিন দিনে সমস্যা না কমলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

চিকিত্সকদের মতে, শরীরের তাপমাত্রা ১০১ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি না হওয়া পর্যন্ত জ্বরের ওষুধ না খাওয়াই ভাল। কারণ, ভাইরাল ফিভার নিজে থেকেই সেরে যায়।

৪০০০ মিলিগ্রামের বেশি প্যারাসিটামল খাওয়া মোটেই উচিত নয়। কারণ তাতে কিডনি ও লিভারের মারাত্মক ক্ষতির ঝুঁকি থাকে।

প্যারাসিটামলের বিষক্রিয়া পশ্চিমি দেশগুলির লিভারের প্রধান কারণ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডে বেশিরভাগ ওষুধের ওভারডোজের কারণে এই সমস্যা হয়ে থাকে।

এটি গ্রহণ করার আগে অবশ্যই আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী গ্রহণ করবেন।

প্যারাসিটামল ট্যাবলেট ব্যাবহার Paracetamol Tablet Uses in Bengali

প্যারাসিটামল ট্যাবলেট এর কাজ কি এবং ব্যাবহার নিম্নরূপ –

  • জ্বর Fever

জ্বর কমানোর জন্য প্যারাসিটামলের জুড়ি মেলা ভার। সাধারণ ঠান্ডার জন্য নাকবন্ধ বা সর্দি উপশম করতেও নেওয়া হয় ।কিন্তু অন্যান্য ঠান্ডা উপসর্গ যেমন গলা ব্যথা, অস্থিরতা, হাঁচি এবং কাশি এগুলি ক্ষেত্রে এর কোনো কাজ দেখা যায় না।

প্যারাসিটামল ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসায় কোন উপকার দেয়নি এবং এর অতিরিক্ত ব্যাবহারের সাইড এফেক্ট হলো লিভারের এনজাইম ক্ষরণের হার কমে যায় এবং যকৃতের সম্ভাব্য ক্ষতির লক্ষণ ও লক্ষ করা গেছে।

জ্বরযুক্ত শিশুদের মধ্যে প্যারাসিটামলের কার্যকারিতা সুস্পষ্ট নয়। প্যারাসিটামল শুধুমাত্র শরীরের তাপমাত্রা কমানোর লক্ষ্যে ব্যবহার করা উচিত নয়। যাইহোক এটি জ্বরযুক্ত শিশুদের ব্যাবহারের জন্য ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এটি জ্বরে হওয়া খিঁচুনি প্রতিরোধ করতে পারে না এবং সেই উদ্দেশ্যে এটিকে করা উচিত নয়।

  • ব্যাথা Pain

মাথাব্যথা, গলাব্যথা, পেশির ব্যথা, দাঁতের ব্যথা, ঋতুকষ্ট ইত্যাদিতে প্যারাসিটামল খুবই কার্যকর। চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়াই এটি বিক্রি হয় এবং যে কেউ কিনতে পারেন। তবে তাই বলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া প্যারাসিটামল ব্যবহার করা একেবারেই অনুচিত।

প্যারাসিটামল হালকা থেকে মাঝারি ব্যথা যেমন পেশী ব্যথা, বাতের ব্যথা সেইসাথে ঠান্ডা, ফ্লু, মোচ এবং ডিসমেনোরিয়ার কারণে সৃষ্ট ব্যথা দূর করতে ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে তীব্র হালকা থেকে মাঝারি ব্যথার জন্য এটি সুপারিশ করা হয়, যেহেতু দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার চিকিৎসার প্রমাণ অপর্যাপ্ত।

  • গা ব্যথা Musculoskeletal Pain

অস্টিওআর্থারাইটিস এবং পিঠের ব্যথার মতো পেশীবহুল অবস্থার ক্ষেত্রে প্যারাসিটামলের উপকারিতা অনিশ্চিত।

গা ব্যথা জন্যে দিন পর্যন্ত প্যারাসিটামল খাওয়া যেতে পারে। তিন দিনে সমস্যা না কমলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

  • মাথাব্যাথা

তীব্র মাইগ্রেনের জন্য প্যারাসিটামল কার্যকরী। 20% থেকে 39% মানুষ এক ঘণ্টায় ব্যথা উপশম অনুভব করে। অ্যাসপিরিন/প্যারাসিটামল/ক্যাফিনের “কার্যকারিতার প্রমাণ রয়েছে এবং এটি মাইগ্রেনের প্রথম সারির চিকিত্সা হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

প্যারাসিটামল নিজে থেকে ঘন ঘন রোগীদের মধ্যে এপিসোডিক টেনশন মাথাব্যথা কিছুটা কমিয়ে দেয়। যাইহোক, অ্যাসপিরিন/প্যারাসিটামল/ক্যাফিনের সংমিশ্রণ প্যারাসিটামল এবং প্লাসিবো উভয়ের চেয়ে উন্নত এবং টেনশন মাথাব্যথার অর্থপূর্ণ উপশম দেয় ওষুধ খাওয়ার 2 ঘন্টার পর উপশম দেয়।

  • দাঁতের ব্যাথা

দাঁতের এবং অন্যান্য অস্ত্রোপচারের পরেও ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।
দাঁতের অস্ত্রোপচারের পরে তীব্র ব্যথার উপর ব্যথানাশক ওষুধের কার্যকারিতার জন্য একটি নির্ভরযোগ্য ।

  • অন্যান্য ব্যথা সম্পাদনা

ক্যান্সারের ব্যথা এবং নিউরোপ্যাথিক ব্যথার জন্য প্যারাসিটামল ব্যবহারকে সমর্থন বা খণ্ডন করার গবেষণার অভাব রয়েছে। জরুরী বিভাগে তীব্র ব্যথা নিয়ন্ত্রণের জন্য প্যারাসিটামলের ব্যবহারের পক্ষে সীমিত প্রমাণ রয়েছে।

অস্টিওআর্থারাইটিসের হাঁটুর ব্যথার জন্য প্যারাসিটামল থেরাপির 13 সপ্তাহ পরে, হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে যা 20% অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল রক্তক্ষরণ নির্দেশ করে, এই হার আইবুপ্রোফেন গ্রুপের মতো।

ব্যবহার পেপটিক আলসারের 1.9 গুণ বেশি ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। যারা এটি নিয়মিত উচ্চ মাত্রায় (প্রতিদিন 2-3 গ্রাম এর বেশি) গ্রহণ করেন তাদের গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল রক্তপাত এবং অন্যান্য রক্তপাতের ঘটনাগুলির ঝুঁকি (3.6-3.7 গুণ) বেশি।

প্যারাসিটামল ট্যাবলেট এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া Paracetamol Tablet Side Effects in Bengali

প্যারাসিটামলের স্বল্পমেয়াদি সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হল বমি বমি ভাব এবং পেটে ব্যথা। দীর্ঘস্থায়ী প্যারাসিটামল সেবনের ফলে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে যেতে পারে যা সম্ভাব্য গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল রক্তপাত এবং লিভার ফাংশন অস্বাভাবিক ভাবে পরিবর্তন হতে পারে।

প্যারাসিটামলের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সাধারণত গুরুতর নয়। তবে শিশুদের বয়স আর ওজন অনুযায়ী প্যারাসিটামল দেওয়া উচিত। তাই শিশুদের প্যারাসিটামল খাওয়ানোর ক্ষেত্রে আগে চিকিৎসকের পরামর্শ অবশ্যই নিতে হবে।

প্যারাসিটামল ট্যাবলেটের সাইড এফক্ট হলো,এটি বেশি মাত্রায় গ্রহণের করলে কার্ডিওভাসকুলার, গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল (আলসার, রক্তপাত) এবং কিডনির ফাংশন এর বিরূপ প্রভাব পড়ে। প্যারাসিটামল ট্যাবলেটের ওভার ডোজ উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে।

গর্ভাবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে প্যারাসিটামল ব্যবহার করলে শিশুদের ও পরবর্তী প্রজন্ম হাঁপানি সমস্যা এবং সঠিক বিকাশে বাধা লক্ষ করা যায় , যদিও প্যারাসিটামল এই সমস্যার প্রকৃত কারণ কিনা তা স্পষ্ট নয়। এই সব কারণের জন্য গর্ভাবস্থায় এর ব্যবহারকে সবচেয়ে কম ডোজের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার আবেদন করা হয়।

সুইডেনের উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষকের দাবি, গর্ভাবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া মাত্রাতিরিক্ত প্যারাসিটামল খেলে অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপার অ্যাকটিভিটি ডিসর্ডার (ADHD) বা অটিস্টিক স্পেকট্রাম ডিসর্ডার (ASD)-এর মতো মারাত্মক স্নায়ুরোগ দেখা দিতে পারে।

আরো পড়ুন : Zerodol SP Tablet কি? ব্যাবহার, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, ডোজ ও সতর্কতা